ফ্রেঞ্চ ওপেন


ফ্রেঞ্চ ওপেন



ফ্রেঞ্চ ওপেন (ফরাসি: Les Internationaux de France de Roland Garros অথবা টুরনই ডা রোল্যাঁ গ্যাঁরো) একটা বড় টেনিস টুর্নামেন্ট যা মে মাসের শেষ ও জুন মাসের শুরুতে দুই সপ্তাহব্যাপী ফ্রান্সের প্যারিসে স্টাডে রোল্যাঁ গ্যাঁরোতে অনুষ্ঠিত হয়। এটা বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্ট এবং পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লে কোর্ট টেনিস টুর্নামেন্ট। রোল্যাঁ গ্যাঁরোই একমাত্র গ্র্যান্ড স্ল্যাম যা ক্লে কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়।

এটি টেনিসের অন্যতম সম্মানজনক ইভেন্ট, এবং সব টেনিস ইভেন্টের মধ্যে এর রয়েছে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি সম্প্রচার ও দর্শক শ্রোতা। স্লো প্লেয়িং সারফেস এবং পুরুষ এককে পঞ্চম সেটে টাইব্রেক না থাকার কারণে এই টুর্নামেন্টটিকে শারীরিক দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন টেনিস টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইতিহাস

১৮৯১ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরু হয় । এসময় এতে কেবল ফ্রেঞ্চ ক্লাবের সদস্যরাই অংশ নিতে পারত । টুর্নামেন্টে মহিলাদের অংশগ্রহণ শুরু হয় ১৮৯৭ সালে । ১৯২৪ সাল পর্যন্ত কেবল ফ্রেঞ্চ ক্লাবের সদস্যদের নিয়েই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয় । আরেকটি টুর্নামেন্ট “বিশ্ব হার্ডকোর্ট টুর্নামেন্ট” ১৯১২ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত(যুদ্ধের বছরগুলো ছাড়া) অনুষ্ঠিত হয়েছিল । এই টুর্নামেন্টই রোল্যাঁ গ্যারোঁতে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল । এই টুর্নামেন্টে বিজয়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সাবেক ১ নং খেলোয়াড় টনি উয়াইল্ডিং(১৯১৩,১৯১৪) এবং বিল টিলডেন(১৯২১) । ১৯২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিক গেমসের কারণে বিশ্ব হার্ডকোর্ট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয় নি । ১৯২৫ সালে টুর্নামেন্টটি আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এবং গ্রাস সারফেসে ম্যাচগুলো রেসিং ক্লাব ডি ফ্রান্স এবং স্টাডে ফ্রাঞ্চাইজে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয় । ১৯২৭ সালে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, ১৯২৮ সালে এটি নতুন স্টেডিয়াম পোর্টে ডি অটুউইলে অনুষ্ঠিত হবে । স্টাডে ডি ফ্রান্সটেনিস কর্তৃপক্ষকে তিন হেক্টর জমি দেয় এবং প্রস্তাব করে যে, নতুন স্টেডিয়ামের নাম রোল্যাঁ গ্যাঁরোর নামে হতে হবে । রোল্যাঁ গ্যাঁরো ছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একজন পাইলট । নতুন স্টেডিয়ামের নাম হয় স্টাডে ডি রোল্যাঁ গ্যাঁরো এবং ১৯৮৮ সালে সেন্টার কোর্টের নাম হয় কোর্ট ফিলিপ চার্টিয়ার ।

১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ফ্রেঞ্চ চ্যাম্পিয়নশিপ উইম্বল্ডনের পরে বছরের তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম হিসেবে অনুষ্ঠিত হত ।

১৯৬৮ সালে ফ্রেঞ্চ চ্যাম্পিয়নশিপ প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্ট হিসেবে টেনিস ইতিহাসে ওপেন যুগের সূচনা করে এবং এতে পেশাদার এবং নবীন খেলোয়াড়দের সুযোগ করে দেয়া হয় ।

১৮৯১ সাল থেকে নতুন পুরস্কার দেয়া শুরু হয়ঃ

  • প্রিক্স অরেঞ্জ (সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড়সুলভ এবং সংবাদ্মাধ্যমের সাথে সহযোগিতামূলক মনোভাবের জন্য)
  • প্রিক্স সিট্রন (সবচেয়ে দৃঢ় মনোভাবের জন্য)
  • প্রিক্স বুর্জিয়ন (বছরের সেরা অভিনব খেলার জন্য)

২০০৬ সাল থেকে টুর্নামেন্টটি রোববারে শুরু হয়ে আসছে এবং এই প্রথম দিনে তিনটি প্রধান কোর্টে ১২টি একক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

আবার, টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে ঐতিহ্যবাহী পিটার ভঞ্জোভিক প্রদর্শনী দিবস অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সহায়তা দেয়া হয় । ২০০৭ সালের মার্চে প্রথম বারের মতো পুরুষ ও মহিলাদের সকল রাউন্ডে সমান প্রাইজমানি দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয় ।


সারফেসের বৈশিষ্ট্য

ক্লে কোর্ট বলের গতি কমিয়ে দেয় এবং গ্রাস ও হার্ডকোর্টের তুলনায় বল বেশি বাউন্স করে । একারণে ক্লে কোর্টে বড় সার্ভ ও সার্ভ থেকে ভলি খেলার সুবিধাগুলো থাকে না । ফলে সার্ভকেন্দ্রিক খেলোয়াড়দের এই সারফেসে বেশ প্রতিদ্বন্দিতার সম্মুখীন হতে হয় । উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পিট সাম্প্রাস, যিনি ১৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম বিজয়ী এবং সার্ভের জন্য বিখ্যাত, কখনো ফ্রেঞ্চ ওপেন জিততে পারেন নি এমনকি ফাইনালেও উঠতে পারেন নি । একইভাবে, জন ম্যাকেনরো এবং ভেনাস উইলিয়ামস(যাঁরা কয়েকটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন), স্টিফেন এডবার্গ, বরিস বেকার, মার্টিনা হিঙ্গিস এবং লিন্ডসে ডেভেনপোর্ট কখনোই ফ্রেঞ্চ ওপেন জিততে পারেন নি।

অন্যদিকে, যেসব খেলোয়াড় ধীর গতির সারফেসে খেলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন যেমন বিয়ন বোর্গ, ইভান লেন্ডল, রাফায়েল নাদাল এবং ম্যাটস উইল্যান্ডার এই টুর্নামেন্টে বেশ সাফল্য পেয়েছেন । টেনিস ইতিহাসে দ্রুতগতির গ্রাস কোর্টে খেলা খেলোয়াড়দের মধ্যে যাঁরা ফ্রেঞ্চ ওপেন(ক্লে কোর্ট) ও উইমবল্ডন(গ্রাস কোর্ট) দুই টুর্নামেন্টই জিতেছেন তারা হলেন রড লেভার, জান কোডস, বিয়ন বোর্গ, আন্দ্রে আগাসি, রাফায়েল নাদাল এবং রজার ফেদেরার ।

প্রাইজ মানি

২০০৯ সালে পুরুষ ও মহিলা এককে প্রাইজমানি ছিল সমান এবং এর পরিমাণ ছিলঃ

ট্রফি

  • পুরুষ এককে চ্যাম্পিয়নঃ কোপা দেস মাস্কেটিয়ার্স ট্রফি
  • মহিলা এককে চ্যাম্পিয়নঃ কোপা সুজান লেংলেন ট্রফি
  • পুরুষ দ্বৈতে চ্যাম্পিয়নঃ কোপা জ্যাকস ব্রাগনন ট্রফি
  • মহিলা দ্বৈতে চ্যাম্পিয়নঃ কোপা সাইমন মাথিউ ট্রফি
  • মিশ্র দ্বৈতে চ্যাম্পিয়নঃ কোপা মার্সেল বার্নার্ড ট্রফি

ট্রফিগুলো খাঁটি রূপা দিয়ে তৈরি, এর পাশে নকশা অঙ্কিত থাকে । প্রত্যেক নতুন একক বিজয়ী নিজের নামাঙ্কিত ট্রফি অর্জন করেন । বিজয়ীরা ট্রফির রেপ্লিকা পান ।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন

সিসিপাসকে হারিয়ে ২০২১ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেন খেতাব জিতেছেন নোভাক জকোভিচ। ৫ বছর পর ফের ফরাসি ওপেন জিতলেন তিনি। জকোভিচের পক্ষে খেলার ফল ৬-৭ (৬-৮), ২-৬,৬-৩,৬-২,৬-৪। এই নিয়ে ১৯তম গ্র্যান্ডস্লাম জিতলেন ৩৪ বছরের নোভাক জকোভিচ।

Giuseppe Zanotti Luxury Sneakers

পাদটীকা

বহিঃসংযোগ

  • Official Site
  • (ফরাসি) Roland Garros on France2
  • (ফরাসি) Roland Garros on ina.fr : more than 600 hours of audio/visual archives আর্কাইভইজে আর্কাইভকৃত ৫ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে
  • Satellite image of the venue (Google Maps)
  • Photos of Roland Garros
  • French Open - All winners and runners-up. Reference book



Text submitted to CC-BY-SA license. Source: ফ্রেঞ্চ ওপেন by Wikipedia (Historical)


Langue des articles




Quelques articles à proximité